February 25, 2024

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার বিস্তারিত:

মানুষের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। নানা কারণে কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। নিচের লেখায় কিডনি রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার এবং চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনি রোগ কি?

কিডনি রোগ একটি অবস্থা যেখানে কিডনি যেমন কাজ করা উচিত তেমনভাবে কাজ করে না।

এটি সাধারণত বয়স্কদের হয়ে থাকে এবং নিগ্রো বা দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূতদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

সময়ের সাথে সাথে কিডনি খারাপ হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত কিডনি পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, কিন্তু সাধারণত এমন হয় না। কিডনি রোগ নিয়েই অনেকে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পড়তে থাকুন।

কিডনি রোগ হওয়ার কারণ:

১. দীর্ঘদিন ডায়েবেটিস এ আক্রান্ত হলে।

২. উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।

৩. পানি কম খাওয়া।

৪. ধুমপান করা।

৬. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম না করা।

৭. ইউরিন ইনফেকশন।

৮. কিডনিতে পাথর হলে।

৯. বংশগত কারণেও হতে পারে।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পড়তে থাকুন।

কিডনি রোগের লক্ষণ:

প্রাথমিক পর্যায়:
কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন বুঝা যায় না কারণ কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলেও শরীর তা মানিয়ে নেয়। শুধু রক্ত ​​বা প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত করা যায়। আর প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত করা গেলে এই রোগ থাকা রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

মধ্য পর্যায়:
কিডনি রোগ মধ্য অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে বেশ কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। লক্ষণগুলি হলো:
১. ওজন হ্রাস এবং ক্ষুধামন্দা।
২. শরীর ফুলে গেলে বিশেষকরে মুখমন্ডল।
৩. পা বা হাত পানি ধরে রাখার ফলে ফোলে যায়।
৪. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয়।
৫. ক্লান্তি।
৬. প্রসাবের পরিমাণ কমে যায়
৭. প্রস্রাবে রক্ত।
৮. কোমড়ের দুইপাশে ব্যথা হয়।
৯. বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব।
১০. ঘুমাতে অসুবিধা (অনিদ্রা)।
১১. চামড়ায় চুলকানি।
১২. উচ্চ রক্তচাপ
১৩. পেশীতে টান লাগা।
১৪. অসুস্থ বোধ করা।
১৫. মাথাব্যথা।
১৬. পুরুষদের মধ্যে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ শক্ত হয় না।
CKD-এর এই পর্যায়টিকে বলা হয় kidney Failure.
কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পড়তে থাকুন।

শেষ পর্যায়: 
শেষ পর্যায়ে Renal Disease or Renal Failure হয়ে থাকে। এমন অবস্থায়  ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

আরো জানতে পড়ুন: পুরুষের সেক্সে বৃদ্ধির উপায় কি:জেনে নিন ১৫টি কার্যকর উপায়।
কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পড়তে থাকুন।
কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনি রোগের প্রতিকার:

কিডনি রোগ পুরোপুরি প্রতিকার করা যায় না, তবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।
১. ধূমপান বন্ধ করতে হবে:
ধূমপান হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকসহ কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, যা CKD এর উচ্চ ঝুঁকির সাথে যুক্ত। ধূমপান বন্ধ করা স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে এবং এই গুরুতর অবস্থার ঝুঁকি কমিয়ে দেবে।
২. স্বাস্থ্যকর খাদ্য:
স্বাস্থ্যকর, সুষম খাদ্য রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। সুষম খাদ্য যেমন হতে পারে:
#প্রচুর ফল এবং সবজি ।
#স্টার্চি খাবার যেমন আলু, রুটি, ভাত বা পাস্তা।
#কিছু দুগ্ধজাতীয় খাবার।
#প্রোটিনজাতীয় খাবার যেমন মটরশুটি বা ডাল, মাছ, ডিম বা মাংস।
#স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লবণ এবং চিনির কম খেতে হবে।
#খাদ্যে পটাসিয়াম বা ফসফেটের পরিমাণ সীমিত করা।
৩. অ্যালকোহল বাদ দিতে হবে:
অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল পান করলে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই অ্যালকোহল বাদ দিতে হবে।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম:
নিয়মিত ব্যায়াম রক্তচাপ কমাতে এবং কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট সাইকেল চালানো বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করা যেতে পারে।
৫. প্রয়োজনমাফিক Painkiller নিতে হবে:
অ্যাসপিরিন এবং আইবুপ্রোফেনের মতো অত্যধিক নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বেশিদিন সেবন করলে কিডনি রোগ হতে পারে। তাই প্রয়োজন মাফিক গ্রহণ করতে হবে।
৬. Kidney Risk Calculator:

একটি ক্যালকুলেটর আছে যেটি দিয়ে আপনার কিডনি রোগের ঝুঁকি মাপতে পারবেন। কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সেখানে। তারপর সেটা একটা সম্ভাব্য উত্তর দিবে। ক্যালকুলেটার ব্যবহার করতে এখানে  CLICK করুন।

আরো জানতে পড়ুন পুরুষের সেক্সে বৃদ্ধির খাবার কি: ২৫টি খাবার যা সিংহপুরুষে পরিণত করবে।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পড়তে থাকুন।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনি রোগের চিকিৎসা:

কিডনি রোগের কোনো চিকিৎসা নেই, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য যা করা প্রয়োজন:
১. জীবনধারা পরিবর্তন - যথাসম্ভব সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
২. ওষুধ - উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের এর সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।
৩. ডায়ালাইসিস - রক্ত ​​থেকে বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত তরল অপসারণে সাহায্য করবে।
৪. কিডনি প্রতিস্থাপন – সবশেষে কিডনি প্রতিস্থাপন করা লাগতে পারে।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পড়তে থাকুন।
#জীবনধারা পরিবর্তন:
কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিম্নলিখিত জীবনধারার ব্যবস্থাগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. আপনি যদি ধূমপান করেন তবে ধূমপান বন্ধ করুন।
২. নিয়মিত স্বাস্থ্যকর, সুষম খাদ্য খান।
৩. আপনার লবণের পরিমাণ দিনে 6g এর কম সীমাবদ্ধ করুন - এটি প্রায় 1 চা চামচ।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন - সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট ।
৫. অ্যালকোহল বাদ দিন।
৬. ওজন কমান যদি আপনার ওজন বেশি হয়ে থাকে।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার পড়তে থাকুন।
#ওষুধ:
CKD-এর জন্য বিশেষভাবে কোনো ওষুধ নেই, কিন্তু ওষুধ অনেক সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। যেমন:
১. উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কিডনি সমস্যা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ সেবন করতে হবে।
২. ডায়াবেটিস: ব্লাড সুগারকে সব সময় মেইন টেইনে রাখতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ওষুধ সেবন করতে হবে।
৩. হাই কোলেস্টেরল: রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বেড়ে গেলে তা কিডনির জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ওষুধ সেবন করতে হবে।
৪. পটাশিয়াম এর উচ্চ মাত্রা: কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, যাকে বলা হয় হাইপারক্যালেমিয়া, কারণ তাদের কিডনি সঠিকভাবে কাজ করে না। হাইপারক্যালেমিয়া পেশী দুর্বলতা এবং ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এর কারণে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (অ্যারিথমিয়া) হতে পারে যা হার্ট অ্যাটাক সৃষ্টি করতে পারে। পটশিয়াম নিয়ন্ত্রণে ওষুধ সেবন করতে হবে।
৫. পানি জমা: কিডনি রোগের কারণে পায়ের গোড়ালি, পা এবং হাতে পানি জমে ফুলে যেতে পারে।এর কারণ হল কিডনি রক্ত থেকে পানি অপসারণ করতে পারে না। ফোলা কমাতে স্যুপ এবং দইয়ের মতো তরল খাবার, লবণ কম খেতে হবে।

৬. রক্ত শূণ্যতা (anaemia): কিডনির সমস্যার কারণে অনেক সময় রক্ত শূণ্যতা দেখা যেতে পারে। অ্যানিমিয়ার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

ক্লান্তি
শক্তির অভাব
নিঃশ্বাসের দুর্বলতা
অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
যদি রক্তশূন্যতা থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।
#ডায়ালাইসিস:
কিডনি রোগীদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকের কিডনি শেষ পর্যন্ত কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডায়ালাইসিস হলো রক্ত ​​থেকে বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত তরল অপসারণের একটি পদ্ধতি। 
#কিডনি প্রতিস্থাপন:
সবশেষে কিডনি কোনোভাবেই না কাজ করলে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। অপারেশনের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকে। আর কিডনি নেয়া হয়ে থাকে অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে। কিডনি প্রতিস্থাপন অপারেশন এর সাকসেসের হার ভাল। ৯০% অপারেশন সাকসেসফূল হয়ে থাকে। কিডনি প্রতিস্থাপন এর পর ৫-১৫ বছর পর্যন্ত কিডনি ভালো কাজ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *